"তৈরী পোশাক কারখানায় সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে আরসিসি - উত্তরণের পথে "শীর্ষক মতবিনিময় সভা

“তৈরী পোশাক কারখানায় সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে আরসিসি - উত্তরণের পথে” শীর্ষক মতবিনিময় সভা গত ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখ, রবিবার সকাল ১০.০০ ঘটিকায় শ্রম ভবন-এর (৪র্থ তলায়) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। “রিমিডিয়েশন কোঅরডিনেশন সেল-এ ন্যস্ত কারখানাগুলোর ক্যাপ বাস্তবায়ন (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রমকে আরও সময়োপযোগী ও অধিক কার্যকর এবং চলমান সংস্কারকাজকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, টাস্কফোর্সের বিশেষজ্ঞ সদস্যবর্গ, বিজিএমইএ-র প্রতিনিধি এবং প্রকল্পের প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে দিনব্যাপী এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য যে, দিনব্যাপী আয়োজিত মতবিনিময় সভাটি দুটি অধিবেশনে পরিচালিত হয়। প্রথম অধিবেশনে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে “রিমিডিয়েশন কোঅরডিনেশন সেল-এ ন্যস্ত কারখানাগুলোর ক্যাপ বাস্তবায়ন (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পে নিয়োগকৃত ৬০ জন প্রকৌশলীদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় করা হয়। ক্যাপ বাস্তবায়ন প্রকল্পের প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট জেলার উপমহাপরিদর্শকবৃন্দ ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে অবস্থিত কারখানাসমূহের সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরেন ও উত্তরণের বিষয়ে বিষদ আলোচনা করেন। আরসিসির চলমান কার্যক্রম, বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আরসিসি-র অপারেশন টিম একটি উপস্থানা তুলে ধরেন। এছাড়াও, আরসিসির কার্যক্রমের সংগে সম্পৃক্ত বিভিন্ন অংশীজন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ সমসাময়িক সমস্যা ও উত্তরণের বিষয়ে উম্মুক্ত আলোচনা করেন। দ্বিতীয় অধিবেশনে, পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রস্তুতি ও রিমিডিয়েশন ট্র্যাকিং মডিউল (আরটিএম)এর উপর প্রাথমিক ধারনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব কেএমআলী আজম বলেন ” জাতীয় উদ্যোগের কারখানাগুলো সবচেয়ে দুর্বল। তারা সামর্থবান নয় বলেই তাদের সংস্কারকাজে বাধ্যকরা কঠিন। অত্যন্ত গুরুত্বর্ণ, কঠিনকাজের এদায়িত্ব সবচেয়ে সক্ষম যারা তাদের উপরই বর্তায়। এজন্য তিনি প্রকৌশলীদের প্রতি একাজ যথাযথভাবে ও দক্ষতার সাথে পালনের আহবান জানান”। তিনি আরও বলেন - বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উন্নয়নশীল। আমরা সৌভাগ্যবান এসময়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। সঠিকভাবে, দক্ষতারসাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করলে আমাদের হাত দিয়ে ইতিহাস হতে পারে।
উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক জনাব শিবনাথ রায় বলেন ”আরসিসি ও ক্যাপ বাস্তবায়ন প্রকল্পের প্রকৌশলীরা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকলে মিলে যে বড় কাজ করছি এতে বিভিন্ন সমালোচনা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। আন্তরিকতা, সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে গেলে এসকল সমালোচনা ও প্রতিবন্ধকতা উত্তরণ করা সম্ভব ”। রিমিডিয়েশন কোঅরডিনেশন সেলের প্রকল্প পরিচালক জনাব একেএম সালেহউদ্দিন স্বাগত বক্তব্যে আসিসির সার্বিক কার্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন।
দিনব্যাপী পরিচালিত এ কর্মসূচীতে, তৈরি পোশাক কারখানায় সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে আরসিসি-র ভূমিকা ও গুরুত্ব, দিক নির্দেশনা মূলক প্রস্তাবনা এবং সমস্যা সমাধান নিয়ে প্রয়োজনীয় অভিমত প্রদান করেন অংশীজনেরা।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব এ কে এম মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী ও ড. জিয়াউর রহমান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জনাব মোঃ জয়নাল আবেদীন, বৈদ্যুতিক উপদেষ্টা ও প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক কার্যালয়ের প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক জনাব আবুল খায়ের মোঃ আক্কাস আলী, বিজিএমইএ এর প্রতিনিধি ও জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জনাব ফজলুল হক মন্টু, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।